ব্রেকিং নিউজ :
সিলেট বিভাগের ৭৭ টি ইউনিয়নের ভোট গ্রহন সম্পন্ন উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণের বিষয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব গ্রহণ মহান অর্জন : প্রধানমন্ত্রী নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংযোজন প্রশ্নে রুল হাইকোর্টের বিএনপি বিভ্রান্তি সৃষ্টির রাজনীতিতে বিশ্বাসী : ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও যশোর-খুলনা মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে অর্থায়নে সৌদি সরকারের আগ্রহ প্রকাশ নতুন প্রজন্মের জন্য "চিরঞ্জীব মুজিব" এর মতো আরো চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে শিলং-এ কংগ্রেসের আলোচনা বিএনপি’র ফন্দি-ফিকির আমরা বুঝি : তথ্যমন্ত্রী মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলা শুরু করবে আর্জেন্টিনা ব্লু-ইকোনমির সুযোগ কাজে লাগাতে বিনিয়োগ করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান
  • আপডেট টাইম : 24/11/2021 09:27 PM
  • 34 বার পঠিত

অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই আর্থিক সেবার মোবাইল ব্যাংকিং সেবার প্রসার জরুরী। তবে এ মাধ্যমে এখনও অনেক অপরাধমূলক পরিশোধ ও ডিজিটাল হুন্ডি হচ্ছে। একটি এনআইডি দিয়ে একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সেটা ঘটছে। আর কোনো এমএফএসের মাধ্যমে গ্রাহক যেন প্রতারিত না হন সেদিকে নজর দিতে হবে। সার্বিকভাবে কেন্দ্রিয় ব্যাংকের তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। 
বুধবার মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস শিল্পের কমপ্লায়েন্স নিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদ আয়োজিত এক গোল টেবিল আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এমএফএসে এখন ১০ কোটির বেশি অ্যাকাউন্ট। এর মধ্যে ৪৭ শতাংশ নারী, এটা শুনতেই ভালো লাগে। অনেকের সংশ্লিষ্টতার ফলে এখানে নিরাপত্তার বিষয়টি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, আর্থিক খাতের যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রিয় ব্যাংক স্বাধীন। আমরা কঠোর নজরদারিতে বিশ^াস করি না। তবে নজরদারি না রাখলেও হবে না। প্রতিষ্ঠানের ন্বাধীনতা এবং কমপ্লায়েন্সের মধ্যে সমন্বয় করে কার্যত্রক্রম চালাতে হবে। এমএফএসের কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠি ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসেছে, এটা ইতিবাচক। তবে এমএফএস নতুন ফিল্ড। সচেতনার জন্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন কর্মসূচি নিতে হবে।
অনুষ্ঠান পরিচালনা ও সভাপতিত্ব করেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। ব্যারিস্টার অনীক আর হক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের নির্বাহী পরিচালক ড. নিলুফার বানু। ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে কিছু মানুষের দুর্বৃত্তায়নের কারণে উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে। সব নিয়ম পতিপালন করে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হচ্ছে কিনা কেন্দ্রিয় ব্যাংককে তা দেখতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কোনো ঘাটতি থাকলে তা ঠিক করার উদ্যোগ নিতে হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান বলেন, এমএসের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধমূলক লেনদেন ও ডিজিটাল হুন্ডি হচ্ছে। আমরা যাদেরকেই গ্রেপ্তার করি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একজনের এনআইডি দিয়ে খোলা হিসেকে আরেকজন ব্যবহার করেন। আবার এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ক্যাশ আউট করা হচ্ছে। কোনো অ্যাকাউন্ট না থাকলেও টাকা পাঠানোর সুযোগ মিলছে। অনলাইন ডলার, ডিজিটাল গুডসের মতো অননুমোদিত পরিশোধ করা হচ্ছে এমএফএসের মাধ্যমে। এসব কারণে অপরাধ লেনদেনের সুযোগ পাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে তদারক ব্যবস্থার জোরদার করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল বলেন, আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে হয়তো আন্ত:লেনদেন সেবা চালু করা যাকে। এটা হলে এক এনআইডিতে একটি এমএফএস হিসাব খোলার বিষয়টি ভাবা যাবে। তিনি জানান, এমএফএস সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান যে পরিমাণ ই-মানি ইস্যু করে সমপরিমাণ টাকা ট্রান্স কাম সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টে রাখতে হয়। এধরনের হিসাবে বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা জমা আছে। ফলে গ্রাহকের টাকার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আর অপরাধমূলক পরিশোধ লেনদেন সীমা আরোপসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য এমএফএস সেবার প্রসার দরকার। কেননা দেশে ১০ হাজারের বেশি ব্যাংক শাখা থাকলেও অনেকে সেখানকার সেবা নিতে আগ্রহ দেখান না।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে কেউ-কেউ গ্রাহককের অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদির বলেন, গ্রাহক দৈনন্দিন যে লেনদেন করেন তা প্রোভাইডারের কাছে থাকে না। এটা নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হয়। এছাড়া অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়টি এনআইডি ভেরিফিকেশনের সঙ্গে যুক্ত করার পর আর একটা এনআইডি দিয়ে একাধীক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ নেই। তবে, রেজিস্ট্রেশন করা সিমের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট খোলা হলে তাতে একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ডিএমডি শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ঘটনা ঘটার পর সাধারণত আমরা আইন করি বা ব্যবস্থা নেই। তবে, কেউ যদি ৩০ শতাংশ ক্যাশ ব্যাকের বিজ্ঞাপন দেয় কোনো পরিদর্শন ছাড়াই বোঝা যায় কিছু একটা ঘটছে। আবার সরকারি বিভিন্ন ভাতা বিতরণও নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে না করে মার্কেট শেয়ার বিবেচনায় করতে হবে। সব ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড খুব জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...