ব্রেকিং নিউজ :
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন মৈত্রী দিবস উদযাপন করেছে স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টারে মরক্কো ড. ওয়াজেদ মিয়ার সমাধিতে রংপুরের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকের শ্রদ্ধা থাই প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ সালের নির্বাচনে অংশ গ্রহণের ইঙ্গিত দিলেন লালমনিরহাটে সবজি চাষিদের মাঝে খুশির জোয়ার হবিগঞ্জে আগুনে পুড়ে পুলিশের এক কনস্টেবল নিহত বাউল কামাল পাশার ১২১তম জন্মবার্ষিকী পালিত সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগ বিরোধী অপপ্রচারের যথাযথ জবাব দিতে হবে : ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাইজ ফর ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এর মনোনয়ন আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ
  • আপডেট টাইম : 10/10/2022 01:02 PM
  • 67 বার পঠিত

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল প্রতিনিধি :- নড়াইলে অর্থের অভাবে এস এম সুলতান সংগ্রহশালা ও ঘাট নির্মাণ থমকে আছে। চার বছরেও নির্মিত হয়নি ঘাটটি। এছাড়া সুলতান সংগ্রহশালা পর্যটনবান্ধব করতে নানামুখী উদ্যোগও কার্যকর হচ্ছে না অর্থের অভাবে।
উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, জেলা প্রশাসন ও সুলতান ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে স্মৃতিসংগ্রহশালার পাশে চিত্রা নদীর পাড়ে সুলতানের দ্বিতলা নৌকা তথা ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গকে আরো টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন করতে ‘সুলতান ঘাট’ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১৮ সালের জুনে ঘাট নির্মাণের কাজ শুরু হলেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তা বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি সুলতান সংগ্রহশালাসহ পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়ন কাজও ঝুলে আছে। এসব উন্নয়ন কাজের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। তবে তিন বছরেও তা বরাদ্দ হয়নি।
এদিকে, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে দুই বছরে বেশি সময় পরে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর সুলতান সংগ্রহশালা। শিশুদের কলকাকলিতে জমজমাট শিশুস্বর্গও। এখানকার শিক্ষার্থী মায়মুরা সুলতানা, মেঘনাথ দাস ও সৃষ্টি জানায়, তারা শিশুস্বর্গে নিয়মিত ছবি আঁকা শিখছে। ফুল, প্রকৃতি, নদীসহ বিভিন্ন প্রতিকৃতি আঁকতে পারে তারা।
চারুপীঠ যশোরের শিশু শিক্ষার্থী সোহা ও লাবিবাসহ অন্যরা বলে, এস এম সুলতানের বাড়ি এসে খুব ভালো লেগেছে। তার ব্যবহৃত পোশাক, ছবি, দ্বিতলা নৌকাসহ ব্যবহৃত জিনিসপত্র দেখেছি। সুলতান দাদুর মতো সুন্দর ছবি আঁকতে চাই আমরা।
মানিকগঞ্জ জেলা থেকে আগত দর্শনার্থী পাপিয়া, সোনিয়া ও পরশ বলেন, সুলতানের চিত্রকর্ম ও ফুল-প্রকৃতি দেখে আমরা খুবই মুগ্ধ। তবে জায়গাটি বড় পরিসরে হলে পর্যটকদের আরো ভালো লাগবে। দ্বিতলা নৌকাটিও সংস্কার করা প্রয়োজন। এস এম সুলতান স্মৃতিসংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জী বলেন, এখানে এস এম সুলতানের মূল ছবি আছে ২৩টি এবং রেপ্লিকা ৫১টি। সংগ্রহশালার উন্নয়নে সরকার আরো কাজ করবে, এটাই আমাদের চাওয়া।
সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, এসএম সুলতান তার জীবদ্দশায় যে ঘরটিতে বসবাস করতেন, সেই একতলা ঘরটি সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছে। এস এম সুলতানের ব্যবহৃত খাটসহ অন্যান্য জিনিসপত্রও সুরক্ষিত হয়েছে। এই ঘরটিতেই গত ১০ আগস্ট উদ্বোধন করা হয়েছে-‘ফিরে দেখা সুলতান’ ভিডিওচিত্রের কার্যক্রম। এখানে প্রায় ১৩ মিনিটের ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে পর্যটকদের দেখানো হচ্ছে সুলতানের জীবনাদর্শ ও চিত্রকর্ম বিষয়ে। এই ভিডিওচিত্র দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। এটি বেশ সাড়া ফেলেছে।
এছাড়া সুলতান সংগ্রহশালার ঘাট নির্মাণ, দ্বিতলা নৌকা সংস্কারসহ এলাকাটি পর্যটনবান্ধব করতে প্রায় ২০ কোটি টাকার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এক্ষেত্রে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।
এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রিয় জন্মভূমি নড়াইলের কুড়িগ্রাম এলাকায় সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন সুলতান।
চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার পেয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...