ব্রেকিং নিউজ :
নাটোরে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি মহিলা কলেজের রজতজয়ন্তী বিজয়-জানাত ঝড়ে জয়ের ধারায় ফিরলো সাকিবের বরিশাল মেহেরপুরের পাতাকপির ভোক্তা এখন বিশ্ববাজারে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো বাধা নেই: আইনমন্ত্রী আলজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত পিইউআইসি’র সভায় বাংলাদেশ সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ প্রধানমন্ত্রী রোববার রাজশাহীতে ১,৩১৬.৯৭ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন বিএনপির আন্দোলন চলে রিমোট কন্ট্রোলে অদৃশ্য নির্দেশে : ওবায়দুল কাদের দম ফুরিয়ে এখন হাঁটার পথ ধরেছে বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাসপাতালে ভর্তি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল পেতে হলে বিজ্ঞান চর্চা ব্যাপক হারে বাড়াতে হবে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
  • আপডেট টাইম : 24/01/2023 05:47 PM
  • 17 বার পঠিত

নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরের চরজব্বর ইউনিয়নে নুরজাহান বেগম (৫৭) নামে এক নারীকে পাঁচ টুকরো করে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নিহতের ছেলেসহ ৭ আসামিকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়।
দন্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলো, নিহতের ছেলে হুমায়ুন কবির হুমু (৩২) নিরব (২৬), নুর ইসলাম (৩২), কালাম (৩০), সুমন (৩৩), হামিদ (২৮) ও ইসমাইল (৩০)।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টরে দিকে নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিলুফার সুলতানা এ রায় দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গুলজার আহমেদ জুয়েল। তিনি বলেন, এ হত্যার ঘটনায় প্রথমে নিহতের ছেলে হুমায়ুন কবির হুমা (৩২) বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার সূত্র ধরে পুলিশি তদন্তে হত্যার সঙ্গে সরাসরি সন্তানের জড়িত থাকার বিষয়টি ওঠে আসে। একইসঙ্গে তার সাত সহযোগী মিলে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে প্রমাণ পায় পুলিশ। তিনি আরো বলেন, রায় ঘোষণার সময় আদালতে ৭ আসামি উপস্থিত ছিলেন। এই মামলায় ২৭ জনের স্বাক্ষী গ্রহণ করা হয়। আসামিদের মধ্যে ৫ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। একইসঙ্গে আটক নিহতের ছেলের বন্ধু নিরব ও কসাই নুর ইসলামের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাপাতি, বালিশ, কোদাল ও নিহতের ব্যবহৃত কাপড় উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, নিহত ওই নারীর ছেলে তার সহযোগীদের নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। নিহত নারীর দুই সংসারের দুই ছেলে ছিল। আগের সংসারের ছেলে বেলাল তার মাকে জিম্মায় রেখে কয়েকজনের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নেয় সুদের ভিত্তিতে। তবে ঋণ রেখে দেড় বছর আগে বেলাল মারা যায়। এরপর ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য তার পরের সংসারের ভাই হুমায়ুনকে পাওনাদাররা চাপ প্রয়োগ করে। হুমায়ুন তার মাকে বিষয়টি অবহিত করেন। এ সময় তার মা ১৩ শতক জমি বিক্রি করে এ ঋণ পরিশোধ করতে বলেন। হুমায়ুন জবাবে, মাকে জানান তার মালিকানাধীন ১৪ শতক ও বেলালের স্ত্রীর মালিকানাধীন ১০ শতক জমি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করা হোক। এতে তার মায়ের অসম্মতি ছিল। অন্যদিকে ওই নারীর ভাই দুলালের কাছে ৬২ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিল। পাওনা টাকা পরিশোধ করার জন্য সে তার ভাইকে প্রায় চাপ প্রয়োগ করত। এ কারণে হুমায়ুনের মামাতো ভাই কালাম ও মামাতো বোনের জামাই সুমন তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এছাড়া তার প্রতিবেশী ইসমাইল ও হামিদেরও বেলালের জমির প্রতি লোভ ছিল। এজন্য তারাও হুমায়ুনকে প্রত্যক্ষ হত্যাকান্ডে সহযোগিতা করে।
হুমায়ুন জবানবন্দিতে জানান, বেলালের স্ত্রীর জমি থেকে দুই শতাংশ হামিদকে ও বাকি আট শতাংশ ইসমাইলকে দেয়ার মৌখিক সিদ্ধান্ত হয়। তারপর মায়ের জমি সমান পাঁচ ভাগ করে হুমায়ুন, নোমান, সুমন, কালাম ও কসাই নুর ইসলামকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ প্রতিশ্রুতিতে তারা গত ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর বাড়ির পাশে একটি ব্রিজের ওপর বসে হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করে। পরে তারা রাতের কোনো এক সময়ে ঘরের মধ্যে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করে পাঁচ খন্ড করে পাওনাদারদের ধানক্ষেতে তা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে তারা। পরদিন ৭ অক্টোবর পুলিশ নুরজাহান বেগমের লাশ উদ্ধার করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...